![]() |
| বল্টুর চাকরির ইন্টারভিউ |
বড় বল্টু এবার চাকরি খুঁজছে। তার বউ মিনি বলেছে, এবার যদি চাকরি না পাও, তোমার ফুচকা খাওয়া বন্ধ।
বল্টু ভয় পেয়ে গেল। ফুচকা বন্ধ মানে জীবন বন্ধ। তাই সকাল সকাল সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, একটা টাই যেটা দেখতে অনেকটা স্কুলের বেল্টের মতো পরে ইন্টারভিউ দিতে গেল।
অফিসে ঢুকতেই প্রথম ধাক্কা
রিসেপশনে সুন্দরী মেয়ে। বল্টুকে বলল, আপনার নাম?
বল্টু বলল, বল্টু। তবে আপনি চাইলে স্যার ডাকতে পারেন। ভবিষ্যতে বস হবো তো।
মেয়েটা হেসে বলল, ভেতরে যান, বস অপেক্ষা করছেন।
ভেতরে তিন জন বসে আছেন। একজন মোটা, একজন রোগা, আরেকজন মাঝামাঝি। মানে একদম আলু, পটল, ঝিঙ্গের মতো।
মোটা স্যার বললেন, আপনার সিভি কোথায়?
বল্টু পকেট থেকে একটা কাগজ বের করল। কাগজটা ভাঁজ করতে ছোট হয়ে টিকেটের মতো হয়ে গেছে।
বল্টু বলল, স্যার, সিভি তো আনিনি, বায়োডাটা এনেছি।
স্যার বললেন, দেখি।
সিভিতে লেখা:
নাম: বড় বল্টু
যোগ্যতা: ঘুমাতে পারি ১২ ঘণ্টা, খেতে পারি ২ কেজি বিরিয়ানি
অভিজ্ঞতা: শ্বশুর বাড়িতে ১২ পদ খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে
শখ: ফুচকা খাওয়া ও বউয়ের সাথে ঝগড়া করে জেতা (যদিও কখনো জিতি না)
রোগা স্যার পড়ে হেসে ফেললেন। বললেন, এটা কী?
বল্টু বলল, স্যার, সত্যি কথা লিখেছি। মিথ্যা লিখলে চাকরি পেয়েও টিকবে না।
প্রশ্ন-উত্তর পর্ব আসল কমেডি
মাঝের স্যার বললেন, আচ্ছা বল্টু, বলুন তো, আপনি কেন এই চাকরিটা চান?
বল্টু বলল, স্যার, আমার বউ বলেছে চাকরি না পেলে ফুচকা বন্ধ। তাই চাকরি চাই।
সবাই চুপ। তারপর মোটা স্যার বললেন, মানে আপনি ফুচকার জন্য চাকরি করবেন?
বল্টু বলল, না স্যার, ফুচকা বাঁচানোর জন্য। এটা তো দেশপ্রেম। ফুচকা আমাদের জাতীয় খাবার না হলেও, আমার জাতীয় আবেগ।
রোগা স্যার বললেন, আচ্ছা, আপনি ইংরেজি পারেন?
বল্টু বলল, পারি স্যার।
বলুন তো, I Love You এর বাংলা কী?
বল্টু বলল, আমি ফুচকাকে ভালোবাসি।
স্যার বললেন, ভুল।
বল্টু বলল, স্যার, আমার কাছে এটাই ঠিক। আপনার বউকে জিজ্ঞেস করেন, সেও বলবে আমি ফুচকাকেই বেশি ভালোবাসি।
এবার মোটা স্যার গম্ভীর হয়ে বললেন, আচ্ছা, ধরুন আপনাকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হলো, আপনি কী করবেন?
বল্টু এক সেকেন্ডও না ভেবে বলল, প্রথমে ১ লাখ টাকার ফুচকা খাবো, তারপর ২ লাখ টাকার বিরিয়ানি, বাকি ৭ লাখ টাকা দিয়ে একটা ফুচকার দোকান দেবো, যাতে সারাজীবন ফ্রি খেতে পারি।
স্যার বললেন, আর সঞ্চয়?
বল্টু বলল, স্যার, পেটে সঞ্চয় করব। ব্যাংকে রাখলে সুদ পাবো, পেটে রাখলে শক্তি পাবো। শক্তি বেশি দরকার।
শেষ প্রশ্ন
রোগা স্যার বললেন, আপনি কি চাপে কাজ করতে পারেন?
বল্টু বলল, খুব পারি স্যার।
কেমন চাপ?
যেমন ধরুন, বউ বলেছে বাজার না করলে রান্না হবে না, শাশুড়ি বলেছে মেয়ে সুখে নাই, আর মা বলেছে বিয়ে করে বদলে গেছিস এই তিন চাপে আমি রোজ কাজ করি। অফিসের চাপ তো কিছুই না।
তিন জন স্যার একে অপরের দিকে তাকালেন। তারপর মোটা স্যার বললেন, "বল্টু, আপনাকে আমরা পরে জানাবো।
বল্টু উঠে দাঁড়াল। দরজা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে এলো।
বলল, স্যার, একটা কথা।
বলুন।
চাকরিটা না দিলেও একটা ফুচকার বিল দিয়ে দেন। সকালে বউ টাকা দেয়নি, বলেছে চাকরি পেয়ে খাবি।
অফিসের সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
মোটা স্যার পকেট থেকে ১০০ টাকা বের করে দিলেন। বললেন, যাও, ফুচকা খাও। আর কাল থেকে জয়েন করো। তোমার মতো লোক থাকলে অফিসে বোরিং লাগবে না।
বল্টু টাকা নিয়ে লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে গেল। বাইরে গিয়ে মিনিকে ফোন দিল, "হ্যালো, চাকরি পেয়ে গেছি! এখন ফুচকা খাবো, তুমি আসবে?"
মিনি বলল, সত্যি?
বল্টু বলল, হ্যাঁ, বস বলেছে আমি এখন থেকে অফিসিয়াল জোকার। মানে, এন্টারটেইনমেন্ট অফিসার।
আসলে জীবনটা এমনই। যেখানে সবাই সিরিয়াস হতে চায়, সেখানে একজন বল্টু দরকার, যে হাসাতে জানে। চাকরি পাওয়া বড় কথা না, মুখে হাসি ফোটানো বড় কথা। আর বল্টু সেটা পারে।
তাই আজ থেকে বড় বল্টু বেকার না, অফিসের হাসির ম্যানেজার!
