![]() |
| বড় বল্টুর শশুর বাড়ি |
বড় বল্টু বিয়ে করেছে। হ্যাঁ, সেই বল্টু যে ক্লাস টু-তে একবার স্যারকে বলেছিল, স্যার, আমি পড়া পারি না, কিন্তু আমার ব্যাগে দুইটা কাঁচা আম আছে, খাবেন?
সেই বল্টু এখন জামাই। আর আজ তার জীবনের প্রথম শ্বশুর বাড়ি যাত্রা।
পর্ব ১: যাত্রা শুরু
সকাল ৬ টায় বড় বল্টুর যাত্রা শুরু। সাথে তার বউ মিনি। বল্টুর হাতে একটা মিষ্টির হাঁড়ি। যে হাঁড়ি দেখে মনে হচ্ছে হাঁড়ি না, ছোটখাটো একটা বালতি। দোকানদার জিজ্ঞেস করেছিল, কয় কেজি দেবো?
বল্টু বলল, ওজনে না ভাই, শ্বশুরের ইজ্জতে দেন। যত বেশি দেবেন, তত বেশি আদর পাবো।দোকানদার ৫ কেজি রসগোল্লা ঠেসে দিয়েছে।
বাইকে উঠতে গিয়ে বিপত্তি। মিনি বলল, হেলমেট পরো।
বল্টু বলল, শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছি, হেলমেট পরলে শ্বশুর ভাববে জামাইয়ের মাথায় সমস্যা আছে। খালি মাথায় যাই, যাতে বুদ্ধি দেখা যায়।
মিনি বলল, তোমার মাথায় বুদ্ধি থাকলে তো দেখা যাবে।
পর্ব ২: শ্বশুর বাড়ির গেট
শ্বশুর বাড়ির গেটে ঢুকতেই বল্টুর শাশুড়ি দৌড়ে এলেন। হাতে ঝাড়ু। বল্টু ভাবল, এইরে, প্রথম দিনই ঝাড়ু পেটা!
শাশুড়ি বললেন, বাবা, ঝাড়ুটা সরাও, পা লাগবে। আসো আসো, ভেতরে আসো।
ভেতরে ঢুকে বল্টু দেখে, এক উঠানে ১৫ জন মানুষ বসে আছে। সবাই তাকিয়ে আছে।
বল্টু ফিসফিস করে মিনিকে বলল, এরা কারা?
মিনি বলল, আমার পরিবার।
বল্টু বলল, পরিবার না ক্রিকেট টিম? ১৫ জন কেন?
মিনি বলল, এটা তো কম, খালারা এখনো আসেনি।
শ্বশুর মশাই এগিয়ে এলেন। গম্ভীর মুখ। বল্টু সালাম দিল। শ্বশুর বললেন, বাবা, নাম কী?
বল্টু বলল, বল্টু।
শ্বশুর বললেন, ভালো নাম কী?
বল্টু বলল, বড় বল্টু।
শ্বশুর বললেন, "আগে ছোট ছিলে নাকি?
বল্টু বলল, "আগে ছোট বল্টু ছিলাম, এখন বড় হয়েছি, তাই বড় বল্টু। বিয়ের পর ভাবছি মেজো বল্টু হবো।"
সবাই হো হো করে হেসে উঠল। শ্বশুরের গম্ভীর মুখও ফেটে গেল।
পর্ব ৩: খাওয়ার পর্ব আসল যুদ্ধ
এবার আসল অনুষ্ঠান। খাওয়া।
বল্টুর সামনে একটা টেবিল। টেবিলে ১২টা বাটি।
শাশুড়ি বললেন, বাবা, খাও।
বল্টু বলল, মা, কোনটা দিয়ে শুরু করব?
শাশুড়ি বললেন, সবটা দিয়ে।
বল্টু প্রথমে মুরগির রোস্ট ধরল। এক কামড় দিতেই পাশ থেকে এক খালা শাশুড়ি বললেন, ওটা আমার ছেলের জন্য রেখেছিলাম।
বল্টু বলল, সমস্যা নাই খালা, আমি ওর ভাগেরটা খেয়ে ওকে দোয়া দিয়ে দেবো, যাতে ও বড় হয়ে আমার মতো জামাই হতে পারে।
তারপর গরুর মাংস। বল্টু ৩ পিস নিল। শ্বশুর বললেন, আর নাও।
বল্টু বলল, না বাবা, ডাক্তার বলেছে বেশি গরু খেলে গরুর মতো আচরণ করব।
শ্বশুর বললেন, তুমি তো এমনিতেই... থাক।
মাছ এলো। ইলিশ মাছ। বল্টু ইলিশ খুব ভালোবাসে। এক পিস নিয়ে কাঁটা বাছতে বাছতে বলল, এই মাছটা দেখতে ঠিক আমার শালার মতো।
শালা পাশেই বসা ছিল। বলল, দুলাভাই, আমি কি ইলিশ?
বল্টু বলল, না, তুমি ইলিশ না, তুমি কাঁটা। তোমাকে বাছতে সময় লাগে।
সবাই আবার হাসি।
শেষে দই। দইয়ের বাটি দেখে বল্টু বলল, মা, এই দই কি টক না মিষ্টি?
শাশুড়ি বললেন, মিষ্টি।
বল্টু বলল, তাহলে ঠিক আছে, আমি ভাবলাম আমার শ্বশুরের মতো টক হবে।
শ্বশুর বিষম খেলেন। সবাই পানি দাও, পানি দাও শুরু করল। বল্টু নিজেই এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে বলল, বাবা, টক দইয়ের কথা বলিনি, টক কথার কথা বলেছি। আপনি টক না, আপনি সুইট।
পর্ব ৪: কথার যুদ্ধ
খাওয়া শেষে বৈঠকখানায় গল্প।
এক মামা শ্বশুর বললেন, বাবা, তুমি কী করো?
বল্টু বলল, আমি একজন উদ্যোক্তা।
মামা বললেন, কিসের উদ্যোক্তা?
বল্টু বলল, 'ঘুম থেকে দেরিতে ওঠার উদ্যোক্তা। আমি রোজ সকালে উদ্যোগ নিই, আজ তাড়াতাড়ি উঠবো। কিন্তু উদ্যোগটা সফল হয় না।'
আরেক চাচা বললেন, 'ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?'
বল্টু বলল, 'আপনাদের মেয়েকে নিয়ে ফুচকা দোকান দেবো। নাম দেবো 'বল্টু ও মিনির টক-ঝাল-মিষ্টি প্রেম'।'
মিনি লজ্জায় লাল।
শাশুড়ি বললেন, 'বাবা, আমার মেয়েটা কেমন?'
বল্টু বলল, 'মা, আপনার মেয়ে তো একদম আপনার মতো। রান্না করতে গিয়ে লবণের জায়গায় চিনি দেয়।'
শাশুড়ি বললেন, তাই?'
বল্টু বলল, 'হ্যাঁ, কাল ডাল রান্না করেছে, খেয়ে মনে হলো শরবত খাচ্ছি।'
মিনি বল্টুর পায়ে চিমটি কাটল। বল্টু 'উঃ' করে উঠল। সবাই বলল কী হলো? বল্টু বলল, 'কিছু না, ভালোবাসার কারেন্ট লাগল।'
পর্ব ৫: বিদায় বেলা
বিদায়ের সময় শ্বশুর মশাই বল্টুকে ৫০০ টাকা দিলেন। বললেন, "বাবা, মিষ্টি খেও।"
বল্টু টাকাটা নিয়ে বলল, 'বাবা, এই টাকা দিয়ে আমি কী করব জানেন?'
শ্বশুর বললেন, কী করবে?
বল্টু বলল, 'এই টাকা দিয়ে আবার মিষ্টি কিনে আবার আপনাদের বাড়ি আসব। কারণ এখানে খাবার এত মজা, ৫০০ টাকায় পোষাবে না, বারবার আসতে হবে।'
শাশুড়ি হেসে বললেন, 'যতবার ইচ্ছা আসবে বাবা।'
বল্টু বাইকে উঠতে উঠতে বলল, 'মা, একটা কথা, পরের বার আসলে ওই ১২টা বাটি ২৪টা করবেন। আজ একটু কম পড়ে গিয়েছিল।'মিনি বলল, 'চলো তো!'
বাইক স্টার্ট দিতে দিতে বল্টু বলল, শ্বশুর বাড়ি মধুর হাঁড়ি, গেলেই আদর, খেলেই বাড়ে ভুঁড়ি!
পেছন থেকে সবাই হাত নাড়ছে। বল্টুও হাত নাড়ছে, আর মনে ভাবছে, আজকের মিশন সাকসেসফুল। পেট ভরা, পকেট ভরা, আর শ্বশুর বাড়ির সবার মুখে হাসি।
আসলে শ্বশুর বাড়ি মানেই তো এমন একটু ভয়, একটু লজ্জা, আর অনেক অনেক খাবার আর ভালোবাসা। আর বল্টু থাকলে তো হাসি ফ্রি!
