![]() |
| ছবি: বড় বল্টু |
বড় বল্টুর বয়স হয়েছে, মা বললো এবার বিয়ে কর। বল্টু বললো, ঠিক আছে, কিন্তু মেয়ে স্মার্ট হতে হবে, ফেসবুক চালাতে জানতে হবে।
তো একদিন ঘটক একটা মেয়ের খবর আনলো। মেয়ে নাকি বিরাট সুন্দরী, রান্নায় ফার্স্ট, আর টিকটকেও ভাইরাল। বল্টু তো মহা খুশি। সকাল সকাল নতুন পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি, পায়ে চকচকে জুতা পরে রওনা দিলো পাত্রী দেখতে। সাথে নিলো তার বন্ধু পল্টুকে, কারণ পল্টু হলো বুদ্ধি ভান্ডার।
পাত্রীর বাড়ি গিয়ে দেখে বিশাল আয়োজন। টেবিল ভর্তি মিষ্টি, বিরিয়ানি, কোল্ড ড্রিংকস। পাত্রীর বাবা খুব গম্ভীর মানুষ, চেয়ারে বসে আছেন।
বাবা জিজ্ঞেস করলেন: বাবা বল্টু, তুমি কী করো?
বল্টু বুক ফুলিয়ে বললো: "আঙ্কেল, আমি বর্তমানে বেকারত্ব নিয়ে গবেষণা করছি! মানে ফুল টাইম রিসার্চার! সরকারি চাকরির আশায় দিন গুনছি আর রাতে ইউটিউবে 'কিভাবে কোটিপতি হবো ৭ দিনে' ভিডিও দেখি।"
পাত্রীর বাবা: মানে তোমার ইনকাম?
বল্টু: ইনকাম তো সবে শুরু! আমার ফেসবুক পেজ আছে 'বড় বল্টুর মজার জোকস' — ৫০ হাজার ফলোয়ার। ভাবছি মনিটাইজেশন পেলেই আমি বিদেশি কোটিপতিদের মতো স্মার্ট হয়ে যাবো, এখন আপাতত দেশি কোটিপতিদের মতো ভুঁড়ি বানাচ্ছি বিরিয়ানি খেয়ে।
পাশ থেকে পল্টু ফিসফিস করে বললো: আরে গাধা, চাকরির কথা বল!
বল্টু আবার শুরু করলো: হ্যাঁ হ্যাঁ, চাকরি! আমি একবার চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। বস জিজ্ঞেস করলো টিমওয়ার্ক মানে কী? আমি বললাম স্যার, এক প্লেট ফুচকা তিনজনে ভাগ করে খাওয়া, যাতে কেউ বুঝতে না পারে কে বেশি খেয়েছে!
পাত্রীর বাবা হা করে তাকিয়ে আছেন। তখন পাত্রী চা নিয়ে এলো। বল্টু পাত্রীকে দেখে তো ফিদা।
বল্টু সাহস করে জিজ্ঞেস করলো: আপনি ফেসবুক চালান?
পাত্রী লজ্জায় বললো: জি, একটু আধটু।
বল্টু: তাহলে বলেন তো, 'Seen' করে রিপ্লাই না দেওয়াকে ইংরেজিতে কী বলে?
পাত্রী অবাক: কী বলে?
বল্টু: অত্যাচার! যা আমার উপর আমার ক্রাশ প্রতিদিন করে!
এই কথা শুনে পাত্রীর বাবা বিষম খেলেন। পাত্রী হেসে ফেললো।
এবার পাত্রীর বাবা বললেন: আচ্ছা, ধরো তোমাকে ১০ লাখ টাকা দিলাম ব্যবসা করার জন্য, কী করবে?বল্টু চোখ বন্ধ করে ভাবলো, তারপর বললো: প্রথমে ২ লাখ দিয়ে একটা বড় বক পাখি আর বাবুই পাখির খামার করবো, কপিরাইট ফ্রি ছবি তুলে ফেসবুকে বিক্রি করবো! ৩ লাখ দিয়ে গ্রামে 'চায়ের দোকান' খুলবো, নাম দেবো 'বল্টুর আড্ডা'। আর বাকি ৫ লাখ দিয়ে? বাকি ৫ লাখ দিয়ে বিরিয়ানি কিনে ফ্রিজে রেখে দেবো, যাতে ভবিষ্যৎ বউ রান্না না করলেও আমার সমস্যা না হয়!
পাত্রীর মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বললেন: বাবা, তুমি তো খুব হিসাবি!
বল্টু: আন্টি, হিসাবি না হলে চলে? বিদেশি কোটিপতি তো হিসাব করে টাকা বাঁচায়, আর আমরা দেশি কোটিপতিরা হিসাব করে বিরিয়ানি বাঁচাই!
শেষে পাত্রীর বাবা রেগে গিয়ে বললেন: তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দেবো না!
বল্টু উঠে দাঁড়িয়ে বললো: আঙ্কেল, সমস্যা নাই। আপনি না দিলে কী হবে, আমার মা তো বলেছে তোর জন্য মেয়ে আমি খুঁজে আনবোই! আপনি শুধু বিরিয়ানিটা প্যাক করে দিন, রাস্তায় খেতে খেতে যাবো!
বল্টু বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে হাঁটা দিলো, আর পল্টু পেছন থেকে বলছে দোস্ত, বিয়েটা হলো না, কিন্তু বিরিয়ানি তো হলো! এটাই লাভ!
শিক্ষা: বড় বল্টুর মতে পাত্রী দেখতে গেলে কখনো খালি পেটে যেও না, কারণ বিয়ে না হলেও বিরিয়ানি মিস করা উচিত না!
