ফিচার রিপোর্ট:
![]() |
| ছবি: দোয়েল পাখির ছবি |
সময় ভোর হলেই ঘুম ভাঙতো দোয়েলের মিষ্টি শিসে। বাড়ির উঠান, গাছের ডাল, স্কুলের মাঠ - সবখানেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন প্রায় অদৃশ্য। জাতীয় পাখি দোয়েল আজ বিলুপ্তির মুখে।কংক্রিটের শহরে হারিয়ে যাচ্ছে তার সুর।
কোথায় গেল দোয়েল?
বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল। চটপটে স্বভাব আর সুরেলা ডাকের জন্য প্রাণীপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু ঠাকুরগাঁওসহ সারাদেশে গত ১০ বছরে দোয়েলের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
ঠাকুরগাঁও সদরের ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছরের আব্দুল করিম বলেন, "আগে বাড়ির পেয়ারা গাছে সারাদিন ৪-৫ টা দোয়েল খেলতো। এখন মাসে ১ টাও চোখে পড়ে না। কীটনাশক আর গাছ কাটার কারণে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।"
বিলুপ্তির ৩টি প্রধান কারণ:
১) আবাসস্থল ধ্বংস: শহরায়ন, গাছপালা কাটা আর ইট-বালুর ভবনের কারণে দোয়েলের বাসা বাঁধার জায়গা কমে গেছে। দোয়েল ঝোপঝাড় আর নিচু গাছে বাসা বাঁধতে পছন্দ করে।
![]() |
| দোয়েল পাখির ছবি |
২) কীটনাশকের প্রভাব: কৃষিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে দোয়েলের প্রধান খাবার পোকা-মাকড় কমে গেছে। বিষাক্ত পোকা খেয়ে অনেক দোয়েল মারা যাচ্ছে।
৩) খাঁচায় বন্দী করা: সুরেলা ডাকের কারণে অসাধু কিছু মানুষ দোয়েল ধরে খাঁচায় বিক্রি করে। এতে প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
![]() |
| দোয়েল পাখির ছবি |
পরিবেশবিদরা কি বলছেন?
ঠাকুরগাঁও পরিবেশ সংগঠনের সদস্যদের মতে, "দোয়েল শুধু একটি পাখি না, এটি আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্যের ইন্ডিকেটর। দোয়েল কমে যাওয়া মানে আমাদের পরিবেশ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এখনই বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি আর কীটনাশক কমাতে না পারলে ২০ বছরের মধ্যে দোয়েল শুধু বইয়ের পাতায় থাকবে।"
সমাধানের পথ কি?
পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মতে দোয়েলকে বাঁচাতে হলে:
১)বাড়ির আঙিনায় ফলজ ও বনজ গাছ লাগানো
২)জৈব কৃষিতে উৎসাহিত করা
৩)দোয়েল ধরা ও বিক্রিতে কঠোর আইন প্রয়োগ
৪)স্কুল-কলেজে সচেতনতা বৃদ্ধি
জাতীয় পাখি হারিয়ে গেলে শুধু একটি প্রজাতিই হারাবে না, হারিয়ে যাবে আমাদের শৈশবের স্মৃতি, ভোরের সুর। সরকার, প্রশাসন আর সাধারণ মানুষ একসাথে এগিয়ে না এলে "দোয়েল" নামটি হয়তো একদিন শুধু ইতিহাস হয়ে থাকবে।
এখনও সময় আছে। আসুন, নিজের বাড়ির একটি গাছে দোয়েলের জন্য জায়গা রাখি।


